১৮ মে, ২০১৬

ভন্ড

হাতের তালুর মতো চিরচেনা মানুষগুলো এখন রক্তচোষা জোঁক
অলীক আগুনে পুড়ে যারা হয়েছিল সিদ্ধি সাধু
তাদের এখন জলের মতো সুসময়
স্বর্ণ-সময়ের সঙ্গী হতে কাটে তাদের ব্যস্ত দিনরাত।
মরে যাওয়া নির্লিপ্ত সময়গুলো আঙুলের সহজ ইশারায়
জীবন্ত করে ভাবছো তুমি মস্ত জাদুকর।
আমরা সবই জানি..........
অন্ধকারের দোকান খুলে যারা করে বাজার সদাই
তারাই নাকি এখন স্রষ্টার বিশেষ প্রতিনিধি।
অথচ আমরা তো জানি চীনাজোঁকের কোন ধর্ম থাকে না।

৮ আগস্ট, ২০১৫

ভেঙ্গে যাওয়া বুক পাঁজরের কান্না

সর্বনাশা চোখের দিকে চেয়ো না
ঐ চোখে এখন সহসাই জ্বলে ট্রয়ের আগুন
তীব্র আঁচে উন্মাদ হয়ে গেছে মৃতচাঁদের জ্যোৎস্নাদল
শহুরে জমিনে লেগে আছে তামাটে গন্ধ।
ওপারে বর্ষা নামে শ্রাবণের
জল সংসারে প্রবাহিত হয় বেদনার ঢল
তা দেখে উল্লাসে মেতে ওঠে ন্যাংটা বৃক্ষরাজির দল
এখন ঘাসদের সাথেই গড়ে ওঠে আদিম সখ্যতা
পাললিক পৃথিবীতে কাটাই পলিমাটির জীবন
নীরবে যারা ভালোবেসে যায় সেই বেশ্যাদের বুকে কান পেতে শোন
মানচিত্র থেকে মুছে যাওয়া নদীর মতো
শব্দহীন কান্নায় কেমন করে ভাঙ্গছে তার বুকের পাঁজর।

মৌনতার কবিতা

প্রশ্ন করে কথার মিছিল বাড়াতে চাই না, দীর্ঘ করতে চাই নাই রাতের আসর
জলের মতই নিঃশব্দে চলে যেতে চাও, জলেরও তো নিজস্ব ভাষা আছে
কেউ শোনে না বলেই বোবা মানুষের মতন আপন মনে বয়ে চলে
মিছে নয় জন্মের আহ্বান ভুলে যাও পরাবাস্তবতার প্রেম
কর্ষিত ভূমি উর্বরা করতে বৃষ্টির দেবতাকে আমি ভিজতে বলেছি
আমার যাত্রানাস্তি করেছে যে দুরাত্মা খুনি তার ক্ষমা নেই
বৈতরণী নায়ে পাড়ি দিবো মহা আটলান্টিক নদী
মিথ্যের দেয়ালে আটকানো যায় না সূর্যরশ্মি, আত্ম অহমিকার দহনে
পুড়ে যায় সত্যবচন, পুণ্যের হিসেব।
মেঘে মেঘে বেলা অনেক দূর গড়িয়েছে পরাজয়ের জলে ভরিয়েছি দুই হাত
ঠোঁটের ফাঁকে আঁধার দেখে নিস্পৃহ হয়েছে জোনাক পোকার দল
কথা তো অনেক হয়েছে, মুখর ঝাঁঝালো মিছিল হয়েছে, মৌন মিছিলে স্তব্ধ হয়েছে শহর
তবু শবযাত্রা ও বৃষ্টি ভেজা কান্না বন্ধ হয়নি আজও।

প্রত্যাশার ভালোবাসা

আমিও তো পুরুষ
আমারও তো লোভ হয় তোমার ঠোঁটে রাখি তৃষিত দুই ঠোঁট
ঘামে ভেজা বিশ্বাসগুলো জমা রাখি হাতের মুঠোয়
প্রথাবিদ্ধ ভালোবাসার বন্ধন ভেঙ্গে দিয়ে পান করি মৃত্যুসুখ
গড়িয়ে পড়া অপরাহ্নে বুকে এসে লাগুক প্রজাপতির মৃদু স্পন্দন
আবেগী চাহনীতে ঝরে পড়ুক কৃষ্ণপক্ষের শেষ অমানিশার রাত
বর্ষা গেল, শরৎ গেল বসন্তটাও যাচ্ছে চলে নিজের নিয়মে
আসছে শীতে দাবানল ঠোঁটের উষ্ণতায় চনমনে করে রাখবো তোমাকে।

প্রকৃতি ও মানুষ

ইচ্ছের নদী পার হয়ে মাঝে মধ্যে আমি সমুদ্র হয়ে যাই
দূরবর্তী মেঘের সাথে করি পত্রমিতালী
বন্ধুত্বের আশায় জীবনের যতো স্মৃতি কথা লিখে রাখি মাঝির বুকে
পাড় ভাঙ্গা জলের সংসারে আঁধারে জ্বালিয়ে দিই জোনাকীর আলো
মৌন বাতাসে উড়িয়ে দেই শব্দের খইমালা
মানবতার দৃষ্টান্ত দেখার জন্যে মাঝে মধ্যে আমি পাহাড় হয়ে দাঁড়িয়ে যাই
মৃত চাঁদের জ্যোৎস্নায় খুঁজে চলি ক্ষুদ্র জীবনের অর্থ।
যারা চলে যেতে চায় তারা চলে যাক
মিছে মায়ার বাঁধনে জড়িয়ে বিভ্রম ছড়ানো কি প্রয়োজন
পোড়া শহরের সমস্ত গ্যালারি জুড়ে শোনা যায় অতৃপ্ত আত্মার হাহাকার
সঙ্গীবিহীন বৃষ্টি, বধ্যভূমির বাতাস, পুচ্ছবিহীন ময়ূরের নৃত্য এসব
দেখতে দেখতে আমরা সবাই ফিরে যাচ্ছি আদিম সত্ত্বায়
মাঝে মধ্যে আমি দিগন্তের নীল আকাশ ছুঁয়ে যাই
আদিগন্ত বিস্তৃত মেঘের মাঝে ক্নান্ত পাখির মতো খুঁজি আশ্রয়
অবাক বিস্ময়ে আমি দেখি শ্রেষ্ঠ জীব! মানুষের চেয়ে প্রকৃতি কতটা ভাল
কোন হিংসা-দ্বেষ নেই, পায়ের সাথে পায়ের ঠোকাঠুকি নেই
আপন রীতি অনুযায়ী আজীবন বয়ে নিয়ে যায় মানুষের জঞ্জাল।